নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে নীতি ও নৈতিকতার আলোকে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. এ. এন. এম. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (AUST) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ (ICKIEL-2026)’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চীন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের মূল নৈতিক ভিত্তি থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি, যা গভীরভাবে ভেবে দেখার বিষয়। আর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম এবং নৈতিক মূল্যবোধের (ইথিক্যাল ভ্যালুজ) ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।”
বর্তমানে চীনে অবস্থানরত শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিতে দেশটি সফর করছেন। সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্বের ১০০টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ছয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগে কৌশলগত শিক্ষাগত সমন্বয় করা হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (BIIT) ও আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষা ও জ্ঞানের বৈশ্বিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত নেতৃত্বের বিকাশ ছিল সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
এতে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ প্রায় ১৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম. এইচ. খান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইটির মহাপরিচালক ও সম্মেলনের আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে জাগতিক শিক্ষার আমরা কোনো সমন্বয় করতে পারছি না। অন্যদিকে, আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত দক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশে সাধারণ বেকারত্বের হার প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বেকারদের হার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং জাতীয় ব্যর্থতার প্রতিফলন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আধ্যাত্মিক শিক্ষার সঙ্গে জাগতিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে সামাজিক চাহিদার যথাযথ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন সার্ভিসেস সেন্টারের পরিচালক ও আয়োজক কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরওয়ার মোর্শেদ। বক্তব্য দেন সহ-আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়ার (USIM) লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্যাকাল্টির ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রুশদান মাহাদ জিলানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল হক। এ ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রহমান।
তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজক ও সহ-আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি সেইনস ইসলাম মালয়েশিয়ার প্রফেসর ড. মো. ইউসুফ আলী।
Posted ১:৪০ পিএম | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।